মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশপত্র ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। এতে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। পরবর্তীতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বোর্ডের বিশেষ অনুমতিতে বিলম্বিত সময়ে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, দেরিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়ায় তারা মানসিক চাপে পড়েন। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে তারা দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা হলেন মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন।
কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বিষয়টির দায় স্বীকার করে বলেন, প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এ ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং নিজের দায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে এসে বিষয়টি তদন্ত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ডের অনুমতি এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ায় তারা শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।


