কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্রীকাইল–৫ মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ থেকে আবিষ্কৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ কূপের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য এলাকার সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র মাহে রমজানের এই পবিত্র দিনে আমরা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করতে পারলাম।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক সংবাদ।’
তিনি আরও জানান, বাপেক্সের দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে শ্রীকাইল–৫ কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ এটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা এবং বাপেক্সের দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য মুখলেসপুর ও মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাতকে ধীরে ধীরে দেশীয় সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের মাটির নিচে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশের গ্যাসের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ দেশীয় উৎপাদন থেকেই সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই তার প্রতিটি কাজে থাকবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। দেশের জনগণ যেন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন—তাদের সম্পদ কীভাবে উত্তোলন হচ্ছে এবং কীভাবে তা দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রীকাইল–৫ কূপে খনন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তা সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কূপটিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে, যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী প্রায় ১০ বছরে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, বর্তমান বাজারমূল্যে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। এই গ্যাস আমদানি করতে হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতো বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. ইফানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মুরাদনগরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


