শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের এক বিট কর্মকর্তা ও এক ফরেস্ট গার্ডের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নকশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান (২৮) এবং ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল ইসলাম (৩০)।
রাংটিয়া রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল করিম জানান, অভিযুক্ত বালুখেকোরা হলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার থানা রোড এলাকার কছিমুদ্দিন মেম্বারের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪৫), তার ছেলে রুমান (২৫), একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়াসহ (২৮) আরও কয়েকজন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি মাহিন্দ্র গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ওই বিট কর্মকর্তা, ফরেস্ট গার্ডসহ বন বিভাগের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তারা বালুভর্তি মাহিন্দ্র গাড়ি জব্দ করে এবং কয়েকজন বালু পাচারকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এর জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার নকশী এলাকায় বন বিভাগের ওই দুই সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গারো পাহাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছে।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ফরহাদ হোসেন জানান, হামলার সময় তিনি ও তার ছেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশে এ ঘটনা তাদের সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল করিম বলেন, গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


