শুধু হাত বদল হয়েছে, চাঁদাবাজি-জুলুমের অবসান হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘৫ আগস্টের আগে দেশে যেভাবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও জুলুম চলছিল, ঠিক একইভাবে এর পরেও সেই কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে। শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কাজের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মঙ্গলবার বিকালে সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়ছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু কর্মী নির্দিষ্ট এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকারে বাধা দেওয়া হলে আমরা আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ জানাব।’
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের পক্ষে। তবে শান্তিপূর্ণ আচরণকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।
‘যদি নির্বাচিত হওয়ার আগে হুমকি বা বাধা আসে, তা মেনে নেব না। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রশিবির যখন জেগে উঠবে, তখন পালানোর দিশা খুঁজে পাবেন না।’
সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোনো কর্মী কখনো প্রতিপক্ষকে ভোট চাইতে বাধা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।’
ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী।’ আগামী ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় জানাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় দেলাওয়ার হোসেন দাবি করেন, বিভিন্ন জরিপে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত মিলছে।
তিনি বলেন, ‘যাদের বয়স ৭০ বছর পেরিয়েছে, তাদের উচিত ছিল অবসর নিয়ে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া। এই বয়সে দেশ ও জাতিকে দেওয়ার মতো তেমন কিছু আর থাকে না।’
তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ সময় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও শহর শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


