স্বাস্থ্যখাতে গুণগত পরিবর্তন না হলে, শুধুমাত্র সরকারের বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আপনারা জানেন গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসেস বা বিশ্বসেরা পদ্ধতিগুলো কী। সেগুলো আপনাদের ধারণ করে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। শুধুমাত্র সরকারের বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না, পরিবর্তনের জন্য আপনাদের ভেতরে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নবস্থাপিত ৫০ শয্যার বিশেষায়িত ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন ও উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেবল অর্থ বরাদ্দ বা অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। আপনাদের ইনস্টিটিউট এবং সেবা খাতে আপনারা যারা প্রফেশনাল ও ফ্যাকাল্টি আছেন, সকলকে পুনরায় চিন্তা করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটিকে রিসেট করতে হবে।’
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত দিনের ঋণের দায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও সরকার অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে একটি বড় বাজেট পেশ করেছে। বাজেট বাস্তবায়নকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আমির খসরু বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক খাতে এত বড় বিনিয়োগ দেশের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্তমান সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে স্থবির হয়ে থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি বর্তমান সরকারের আমলে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও আগের সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে হামের শতভাগ ভ্যাক্সিনেশন নিশ্চিত করেছে। আগে যারা আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের জন্য আমাদের বেশি কিছু করার ছিল না। কিন্তু এখন আমরা সুরক্ষাকবচ তৈরি করেছি।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে বর্তমানে ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা অনেকটা কমে এসেছে। মশার উপদ্রবও আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রিত। চট্টগ্রাম মহানগর এবং চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যু হয়নি। যা অনেক বড় সাফল্য।’
এই সেবার ধারা অব্যাহত রাখতেই নতুন এই ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। বিনিয়োগের প্রতিদান হিসেবে মানুষের কাছে যথাযথ সেবা পৌঁছে দিতে হবে, তা না হলে বিনিয়োগ সার্থক হবে না।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার তসলিম উদ্দিন, চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিভিন্ন শয্যা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।


