জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় নাঈম (৪) নামে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার সৎ মা জাহানারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার তিলকপুর ইউনিয়নের গিলাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নাঈমের বাবা জলিল শেখ বর্তমানে পলাতক। নাঈমের জন্মদাতা মা মারা যাওয়ার পর সৎ মা জাহানারা বেগম তার দেখাশোনা করতেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রী মৃত্যুর পর জলিল শেখ দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান–জান্নাতি ও নাঈম। প্রায় চার বছর আগে লিপি বেগম মারা গেলে জলিল তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জাহানারার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। এরপর থেকে নাঈম ও তার বোন জান্নাতির ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রতিবেশীদের দাবি, প্রায় দুই শিশুকে মারধর করা হতো। রোববার বেলা ১১টার দিকে বাবার অনুপস্থিতিতে নাঈমকে ঘরের ভেতর নির্যাতন করেন সৎ মা জাহানারা বেগম।
পরে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন। তারা গিয়ে ঘরের মেঝেতে নাঈমকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ ও মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত ছিল।
ঘটনার পর এলাকাবাসী জাহানারা বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে নাঈমের বাবা জলিল শেখ পলাতক রয়েছেন।
প্রতিবেশী নাজমিন আক্তার নাজু বলেন, ‘ডাকাডাকি শুনে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি নাঈম মেঝেতে পড়ে আছে। তার শরীরের অনেক জায়গায় কালচে দাগ ও মাথায় গভীর ক্ষত।’
নিহত শিশুর মামা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘নাঈমকে তার বাবা ও সৎ মা প্রায়ই মারধর করত। ইট-পাথর দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার সৎ মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বাবাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


