ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ডাকসু। শাহবাগ থানার ভেতরে এমন হামলাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দখলদারি প্রতিষ্ঠার নির্লজ্জ নীলনকশা বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক বার্তায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শাহবাগ থানার ভেতরে পুলিশের নিস্ক্রিয় ভূমিকার সামনেই ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং বহিরাগত নেতাকর্মীরা একত্রে ডাকসু প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির নেতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চালায়।’
ডাকসু এই ‘নৃশংস ও নির্লজ্জ’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে উল্লেখ করে বার্তায় হুশিয়ার করে দেওয়া হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাই আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণ হয়েছিল। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের পরিবর্তে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দখলদারি করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তার যথোপযুক্ত জবাব দেবে।’
এ হামলার প্রেক্ষিতে কয়েকটি দাবিও জানিয়েছে ডাকসু। সেগুলো হলো:
অনতিবিলম্বে হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদের ওপর করা অহেতুক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ স্পষ্ট করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দখলদারির রাজনীতি ও সন্ত্রাসে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে এআই ছবিযুক্ত একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। মাহমুদ ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে করা ওই পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে শাহবাগ থানার ভেতরে মারধর করা হয়। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কয়েকজন সাংবাদিকও।


