ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মারা গেছেন।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার বিকালে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) যাওয়ার পথে তিনি গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গাড়িচালক ও এক পথচারীর সহায়তায় তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকেরা জানান, তার ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয় এবং হৃদ্যন্ত্রে স্টেন্টিং (রিং পরানো) করা হয়। এর পরদিন থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে পানি জমার কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর কিছুটা উন্নতি হলেও পরবর্তীতে আবার অবস্থার অবনতি ঘটে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ শুক্রবার রাতেই বারডেমের হিমঘরে নেওয়া হয়। শনিবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
সাহিত্য, অনুবাদ, প্রবন্ধ ও সমালোচনায় বহুমাত্রিক অবদান রাখা সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলাদেশের সমকালীন সাহিত্য জগতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষক, লেখক, অনুবাদক ও সংস্কৃতিকর্মী।
১৯৫১ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ঢাবির ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি।
ঢাবির ইংরেজি বিভাগে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে ২০১৮ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর তিনি ইউল্যাবে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তাকে ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।


