বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
অধিবেশনে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ তার প্রশ্নে জানতে চান— বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন যাবত অবসরকালীন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবসরপ্রাপ্তির ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন ভাতাদি পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। একজন শিক্ষক বা কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন।’
এই আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ফলে এখানে প্রায় ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকার অর্থসংকট বা ঘাটতি বিদ্যমান রয়েছে, জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টেও ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের এই আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইবাস প্লাস প্লাস-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবসর সুবিধা বোর্ডের বর্তমান অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন অবসর গ্রহণের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা পেয়ে যান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


