আন্দোলনরত শিক্ষকদের ‘ন্যায্য দাবির’ সঙ্গে বিএনপি নীতিগতভাবে একমত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানো কিংবা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবে।
বিএনপির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমাবেশে অনেকের বক্তব্যে চাকরি জাতীয়করণের প্রস্তাব এসেছে। কেউ কেউ হয়তো আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার কথা বলেছেন। আপনাদের এই সংগঠনের বাইরেও বেসরকারি শিক্ষকদের বেশ কিছু দাবি রয়েছে। দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে বিএনপি অবশ্যই নীতিগতভাবে একমত। আপনাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল অধিকাংশ দাবিগুলোই তখন পূরণ হয়েছে। কাজেই আপনাদের এগুলো সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল।’
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন হবে না উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতির সংস্কার বা নাগরিক উন্নয়নে আমরা যত উদ্যোগ গ্রহণ করি না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে না পারলে কাঙ্খিত সুফল মিলবে না।’
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে বিএনপি আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের সামর্থ অনুযায়ী শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানো কিংবা চাকরি স্থায়ীকরণ ও জাতীয়করণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবে।’
মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি
শিক্ষকদের ‘নায্য দাবির’ সঙ্গে বিএনপি নীতিগতভাবে একমত জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনকে পুঁজি করে পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে বিএনপি তা প্রতিহত করবে।
প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো— মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনকে পুঁজি করে পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো নমনীয়তা প্রদর্শন করবে না।’

মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার তিন দফা দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার শহীদ মিনার থেকে ‘পতাকা মিছিল’ এবং রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে— ‘মার্চ টু যমুনার’ ডাক দেয় ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’।


