এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট দাবি-দাওয়া পূরণে শাহবাগে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছেন।
বুধবার দুপুরের পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি ঠেকাতে শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থানে ছিল পুলিশ। শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে গিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। আন্দোলনরত হাজার হাজার শিক্ষকদের অবস্থানের কারণে এ সময় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন সকালে জাতীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট থেকে নেতারা এ কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন। সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন, তাদের দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যতদিন না সরকার আমাদের দাবিগুলো পূর্ণভাবে মেনে নেবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা পালন করতে যাব।’
তিনি দাবি করেন, ‘সরকার যদি প্রজ্ঞাপন দিয়ে এগিয়ে আসত, তবে শিক্ষক সমাজের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন রোধ করা যেত।’
‘ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা সহ্য করা হবে না,’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আজিজী আরও বলেন, ‘বাড়িভাড়া ২০ শতাংশের এক শতাংশও কম হবে না, চিকিৎসা ভাতা এক হাজার ৪৯৯ টাকার নিচে হলে চলবে না, এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশের কম হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।’

তিনি বলেন, আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
‘আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে চাই, তবে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে,’ বলেন তিনি।
শিক্ষক নেতাদের দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো আরও বৃদ্ধি পেলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং এ বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ আন্দোলনের ফলে জাতীয় স্তরে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটছে, যা দেশব্যাপী আরও প্রসারিত হতে পারে।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা রোববার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। পরদিন সোমবার ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে বেশ কয়েকজন আহত হন। সেই থেকে শহীদ মিনারে টানা অবস্থান করছেন তারা।


