ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনে একটি দলের আনুগত্য রয়েছে। আমরা যখন তাদের কাছে যাই, তারা বলে প্রচণ্ড চাপ। একটি দলের পক্ষ থেকে এই চাপ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশেও একই অবস্থা।’
দেশের আদালতগুলোয় সরকারি আইনজীবীদের অধিকাংশ একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুসারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এই যে ইমব্যালান্সটা হয়ে আছে আমরা বলেছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেন। নির্বাচনের আগে যেভাবে যেখানে রদবদল করা দরকার করেন।’
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনে আগে লটারি পদ্ধতি ব্যবহার করে বদলি করা হবে।
তবে এই লটারি যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় সে বিষয়টিও সাবধান করে এসেছেন বলে জানান এই জামায়াত নেতা।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।

জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, ‘এই যে রিফর্ম হচ্ছে এর যে ডিক্লারেশনটা, এই আদেশটা কে দেবে? এই প্রশ্ন উঠেছে। তো আমরা বলে এসেছি, যদি আইনে কাভার করে এবং আইনগতভাবে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে তাহলে আমরা চাই চিফ অ্যাডভাইজার এই আদেশটি দিবেন, প্রেসিডেন্ট এটা দিবেন না। কারণ প্রেসিডেন্ট তো কাদের প্রোডাক্ট এটা আপনারা জানেন। উনারা আমাকে বলেছেন উনারা আইনগত দিকটা পর্যালোচনা করবেন। যদি আইনগত কোনো সমস্যা না হয় তাহলে প্রেসিডেন্ট না এই ঘোষণাটা প্রধান উপদেষ্টাই দেবেন।’
নভেম্বরে গণভোট আয়োজন করতে বলেছেন জানিয়ে আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা বলেছি নভেম্বরের লাস্টে গণভোট করেন, এক মাসের বেশি সময় আছে। তারপরে আরও আড়াই মাস থাকবে নির্বাচনের। অনেকে খরচের কথা বলছেন, কিন্তু অনেক খরচ হবে না। যে বাক্স কিনব দুইটা নির্বাচনের কিনব। বাড়তি লাগবে কিছু কালি, ছোট একটু কাগজ আর যাতায়াত ভাড়া।’
কিছু টাকা বাড়তি খরচ করে যদি একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাওয়া যায়, তাহলে সেটাই করা উচিত বলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে মত জানিয়ে এসেছেন জামায়াতের নেতারা।
ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীল করার জন্য জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো জটিলতা তৈরি না করে যেন আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে যেতে পারি সেজন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, এসব থামাতে না পারলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে বলেও আশঙ্কার কথা মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
সরকারের উপদেষ্টাদের বিষয়ে কিছু বলেছেন কিনা জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘আমরা সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যাপারে বলেছি কিছু কিছু লোক আপনাকে বিভ্রান্ত করে। আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তারা কোনো একটা দলের পক্ষে কাজ করে, তাদের বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।’


