জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মানবসেবায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করে যাচ্ছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম মানবসেবায় অনন্য।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশের কাউন্সিল চেয়ারপারসন লায়ন মো. আশরাফ হোসেন খান হীরা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন কনভেনশন চেয়ারপারসন লায়ন সাবিনা সিদ্দিকা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক পরিচালক লায়ন নাজমুল হক। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের লায়ন্স নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
স্পিকার বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশ বিনির্মাণে লায়ন্স সদস্যদের ভূমিকা মানবকল্যাণে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। লায়ন্স সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শিষ্টাচার সমাজের জন্য অনুকরণীয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেবামূলক সংগঠন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল বর্তমানে বিশ্বের ২০০টিরও অধিক দেশ ও ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রায় ১৪ লক্ষাধিক সদস্যের মাধ্যমে মানবসেবা, দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ, ক্ষুধা নিরসন, পরিবেশ সুরক্ষা, ডায়াবেটিস সচেতনতা, শিশু-ক্যান্সার সহায়তা, যুব উন্নয়ন এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। “We Serve” (আমরা সেবা করি) মূলমন্ত্রে পরিচালিত এ সংগঠন এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
স্পিকার কনভেনশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং স্যুভেনির মোড়ক উন্মোচন করেন।
পরবর্তীতে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া করা হয় এবং লায়ন্স আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা হয়।
কনভেনশনে বক্তারা মানবকল্যাণে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের অবদান, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে লায়ন্স সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লায়ন্স নেতারা, সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক, জেলা গভর্নর, ক্লাব প্রতিনিধি, সদস্যরা, বিশিষ্ট অতিথিরা এবং গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।


