কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে জি.কে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার রাতে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিস আলী (৫৩) ক্যাম্পের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি পিকনিকে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইদ্রিস আলী। পরে তাকে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের জি.কে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে রোগীর ডাটা কার্ড না থাকায় চিকিৎসা শুরু করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরি হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
বিক্ষুব্ধরা হাসপাতালের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ, বালুখালী আর্মি ক্যাম্প এবং এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ বিষয়ে জি.কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৮ এপিবিএন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একজন রোহিঙ্গা রোগীর মৃত্যুর পর কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’


