কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা (হেড মাঝি) মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, রাত আড়াইটার দিকে আগুন লাগার পরপরই স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও জানান, আগুনটি ক্যাম্পের পাহাড়ের পশ্চিম পাশ থেকে শুরু হয়ে পূর্ব পাশ হয়ে দক্ষিণের কাঁটাতারের কাছে গিয়ে শেষ হয়। আগুনের কারণে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার রাতে খোলা জায়গা ও স্থানীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
ক্যাম্পের সাব মাঝি আমির হাকিম বলেন, ‘ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে ব্র্যাক এনজিও পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন পাশের শেডগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তিনি জানান, আগুন লাগার পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, সেনাবাহিনী ও এপিবিএন সদস্যরা একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানিয়েছে, ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প (শফিউল্লাহ কাটা) এর ডি-২, ডি-৩ ও ডি-৪ ব্লকে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শতাধিক শেল্টার পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে বহু রোহিঙ্গা পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তার তীব্র প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দশটির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৬ ডিসেম্বর সকালে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এ ছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৩টি শেল্টার সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং বিপুলসংখ্যক শেল্টার ও স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই আগুন পরে পার্শ্ববর্তী আলীখালী ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্তত দুটি ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে।


