দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। অনেক সময় একই বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি এবং অ্যানেস্থলজিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সহায়ক জনবলও কম। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, কাঠামোগত দিক থেকে ওটিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশিরভাগ ওটির মান উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। একটি মাত্র ওটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব ওটি আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে রোগীরা উন্নত পরিবেশে অস্ত্রোপচার সেবা পান।
হাসপাতালের লন্ড্রি ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজস্ব ওয়াশিং প্ল্যান্ট না থাকায় চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে, যেখানে মান বজায় না রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালককে ঠিকাদারদের বিল কর্তন এবং কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাবারের মান সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগীদের জন্য সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পচা বা অখাদ্য খাবার দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তিনি পাননি।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনা হবে এবং হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখতে সবাইকে নিয়ম মানতে হবে।
দালালচক্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগী ভর্তিতে অর্থ আদায়, ট্রলি বেচাকেনা বা রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি জানান, শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়, সারা দেশে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ট্রমা সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষ যাতে নিজ জেলা পর্যায়েই চিকিৎসা সেবা পায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১২ থেকে ১৩ দিনের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা বদ্ধপরিকর এবং এজন্য সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।


