রেমিট্যান্স বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিকে দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, প্রবাসী আয় দেশের জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এ আয় বন্ধের হুমকি লাখ লাখ পরিবারের জীবিকা ও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য ক্ষতিকর।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘কমল কুঁড়ি’ রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী।
অনুষ্ঠানে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে (মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান) ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি নিয়ে কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘রেমিট্যান্স বন্ধ করার এই বক্তব্য শুধু দেশবিরোধী নয়, মানবতাবিরোধী এবং দেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।’
তার ভাষ্য, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অর্থ পাঠান। লাখ লাখ পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত করার শামিল।
রেমিট্যান্স বন্ধ করার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন মানুষও রয়েছেন। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে রেমিট্যান্স বন্ধ করা হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা থাকলে তার সমালোচনা করা যায় এবং অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়। তবে কর্তব্যরত ব্যক্তিকে মারতে যাওয়া বা হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধরনের ঘটনায় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওই ব্যক্তি আগে বিএনপিতে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন দলীয় শৃঙ্খলা মানেননি। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত একজন সামরিক কর্মকর্তাকে মারতে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও করেন রিজভী।
জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন হতে পারে, তারা নিজেরাই ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হবেন।
বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রিজভী অভিযোগ করেন, জামায়াত অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।


