ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিপন (৩৬) হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৫) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায় নিহত হন রিপন।
বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোনার টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে হাজির করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আদালতে এ সাবেক সচিব জাহাঙ্গীরকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে আসা হয়। তিনি খুব অসুস্থ। তাকে এ অবস্থায় কেবল হেনস্তা করার জন্য হুইল চেয়ারে করে আনা হয়েছে। এ মামলাটি করা হয়েছে ২৪ সালে। ১৯ মাস হয়ে গেছে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আসেনি। তিনি সচিব থাকাকালীন শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্তের সুযোগ ছিল না।’
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টায় কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট ডিআইটি বাজার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে ভিকটিম রিপন গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট রাতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন।


