রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি দেশের সংকটকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
রাশেদ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং দেশ পুনর্গঠনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রামের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম সফরের সময় তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও রাশেদ সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি ফটিকছড়ির বাবুনগরের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা এবং হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ইসলামি আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরকালে তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে জেলা পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটেরই অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খান বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করছে। জলবিদ্যুৎ, বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং একটি আরও বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে জাতীয় সংকটের সময়ে জনগণকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনকল্যাণে সহযোগিতা করা, রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করা।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই। তবে জাতীয় স্বার্থে সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। তাই নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত, যোগ করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শক্তিশালী করতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তার সময় গণমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন রাশেদ। সাংবাদিকরা ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, জনগণকে সঠিকভাবে অবহিত করা এবং গুজব ও ভুল তথ্য মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অবদান রাখার আহ্বান জানান রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য।’
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করা সরকারের মূল লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল


