গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
শনিবার বিকালে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তীতে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও, বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না।
জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খাম্বা আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে আহত করছে।
বিগত সরকারের ছাত্র সংগঠনের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, বিগত সরকার সব প্রশাসনকে ব্যবহার করেও টিকতে পারেনি। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠলে বর্তমান সরকারও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী টিকতে পারেননি, বর্তমান সরকারকেও এই ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে, সুতরাং বর্তমান সরকারের পতনের জন্য ১৭ দিনও সময় লাগবে না। যারা একসময় আত্মগোপনে থেকে লড়াই করেছেন, তাদের অবদানেই আজ অনেকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান নেতারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দীন মন্ডল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরীর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম সারোয়ার জাহান প্রিন্স, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর সভাপতি ইমরান নাজির, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক উরসী মাহফিলা ফাতেহা, মহানগর জামায়াতের যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।


