আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে রাজবাড়ীর পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠেছে। রোববার দুপুরে শহরের বিনোদপুর পৌর পশুর হাটে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশি পশুর আমদানির মধ্য দিয়ে এই বেচাকেনা শুরু হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ২৮৪টি। তবে স্থানীয় ৮ হাজার ৮৭২ জন খামারি চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার ৮২৭টি বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। খামারিদের গোয়ালে এবার মোট ৭০ হাজার গবাদিপশু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কোরবানিযোগ্য রয়েছে। এই বিশাল বাজার ব্যবস্থাপনায় জেলায় এবার ১৭টি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ীসহ মোট ৩২টি স্থানে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিনোদপুর পৌর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক, নসিমন, ভটভটিসহ নানা যানবাহনে করে বিক্রেতারা পশু নিয়ে আসছেন। বাজারে বড় গরুর দাম তুলনামূলক কিছুটা কম মনে হলেও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই জানিয়েছেন, বাজারে এখন মাঝারি সাইজের গরুর দিকেই সবার নজর ও চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
বহরপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা জাহিদ ব্যাপারী পশুর দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাটে ক্রেতা অনেক, কিন্তু সবাই শুধু দাম শুনে চলে যাচ্ছে। আড়াই লাখ টাকার গরুর দাম বলছে মাত্র ২ লাখ টাকা।’
অন্যদিকে গরু কিনতে আসা লোকমান হোসেন বলেন, ‘মাঝারি সাইজের যে গরু গত বছর ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এবার সেটার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে।’
তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার অজুহাতে বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন উল্লেখ করে আসরাফ খান নামের এক ক্রেতা জানান, অনেক দরদামের পর শেষমেশ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় তিনি একটি পছন্দমতো দেশাল গরু কিনেছেন।
গরু ছাড়াও হাটে আকর্ষণ কাড়ছে বড় আকারের ছাগল। কল্যাণপুর থেকে ৩৫ কেজি ওজনের একটি বড় রাম ছাগল নিয়ে আসা বিক্রেতা বাপ্পি ছাগলটির দাম ৩৩ হাজার টাকা চাইলেও ক্রেতারা ২৭ হাজার পর্যন্ত দাম করেছেন।
ছাগল কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম জানান, ১৫ থেকে ২০ কেজি মাংস হতে পারে এমন একটা ছাগলের দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাজেট থেকে দুই-তিন হাজার টাকা বেশি দিয়ে ১৮ হাজার টাকায় একটি খাসি কিনেছেন রেহেনা পারভীন।
পৌর পশুর হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হাট মালিক পক্ষের প্রতিনিধি খাইরুল ইসলাম খাইরু জানান, ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এখানে প্রতিদিন হাট বসবে। জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং খুব স্বল্প মূল্যে খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাটে সুস্থ গবাদিপশু নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিশেষ মেডিকেল টিম। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘হাটে এবার দেশি গরুর সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। কোনো অসুস্থ পশু যেন বিক্রি না হয় সেজন্য আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।’
পশুর হাটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘কোরবানির পশুবাহী ট্রাক কোনো হাটে যাওয়ার পথে কেউ আটকাতে পারবে না। প্রতিটি হাটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে।’


