জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে আবারও ঐকমত্য সভা আয়োজনের দাবি তুলেছে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন’ প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ দাবি জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা সংস্কার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য গত পাঁচ মাস ধরে ঐকমত্য সভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ঐক্য কমিশন যে সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, সেটি দেশের রাজনৈতিক ঐক্যকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে, ঐক্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে প্রাথমিক আলোচনাগুলো করেছিল, সেখানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বর্তমান কাঠামো কখনো উপস্থাপন করা হয়নি। যদি প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো যেত, তাহলে আজকের এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হতো না।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদকে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় গঠনমূলক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে একমত হলেও, কিছু প্রস্তাব নিয়ে কয়েকটি দল আপত্তি জানায়। কিন্তু সেই আপত্তিগুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন অভিযোগ করেছে, ঐক্য কমিশনের সুপারিশে আপত্তি লিপিবদ্ধ থাকা বিষয়গুলো বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এই ক্ষোভ যদি দ্রুত নিরসন না করা যায়, তবে তা দেশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
নেতারা বলেন, যখন জনগণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশের প্রতি অবিচার করা সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশ যাতে এই সংকটে না পড়ে, সেজন্য ঐক্য কমিশনকে দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে পুনরায় ঐকমত্য সভার আয়োজন করতে হবে। সংবিধান টেকসই ও সর্বজনীন করতে হলে তাড়াহুড়া নয়, আলোচনাই একমাত্র পথ।


