রাজনীতি নয়, ক্রীড়ায় দেশের প্রতিনিধি হোন: খেলোয়াড়দের প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি নয়, ক্রীড়ায় দেশের প্রতিনিধি হোন: খেলোয়াড়দের প্রধানমন্ত্রী
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
Advertisement
Advertisement

খেলোয়াড়ি জীবনে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হওয়া নয়, বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের প্রতি আহ্বান পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘আজ যারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ থাকায়ই জয় আনন্দময় হয়ে উঠেছে। খেলাধুলায় পরাজয় মানে হেরে যাওয়া নয়, এটি জয় অর্জনের অংশ। আলবার্ট আইনস্টাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষ কখনও পরাজিত হয়নি, সে কখনও কিছু অর্জনও করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, এজন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।’

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্রিকেট ও ফুটবলসহ অন্যান্য অনেক খেলা যেমন আর্চারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদির জন্য সরকার সমন্বিত পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। পাশাপাশি, শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলার আগ্রহ ও প্রতিভা বৃদ্ধি করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অনুষ্ঠান চালু করা হচ্ছে।

এদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব বয়ে আনা স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র পদকজয়ী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের চেক দেওয়া হয়। এর মধ্যে একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীদের তিন লাখ টাকা, রৌপ্য পদক বিজয়ীদের দুই লাখ এবং ব্রোঞ্চ জয়ীদের এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দলগতভাবে বিজয়ীদের যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। ক্রীড়াভাতার অংশ হিসেবে প্রত্যেককে মাসে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদরাও এই সম্মাননার আওতায় এনেছে সরকার। যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া সংস্কৃতির নজির স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তরুণ ক্রীড়াবিদদের ‘নতুন বাংলাদেশের সোনালি প্রহরের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক নিরাপত্তা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া শিল্প’ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও সাফ গেমসের মতো আসরগুলোতে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad