রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকাল ১০টার পর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকায় প্রথম অভিযান শুরু হয়। পরে মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও তেজগাঁও বিভাগের ডিসির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বসা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সীমার বাইরে কার্যক্রম না বাড়াতে সতর্ক করা হচ্ছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ। তিনি জানান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ওয়ার্কশপ তাদের বৈধ সীমানার বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, সেগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতজুড়ে থাকা দোকানের বর্ধিতাংশ, রাস্তার ওপর স্থাপিত অস্থায়ী দোকান এবং মোটরসাইকেল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনাও অপসারণ করা হচ্ছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা খাবারের রেস্টুরেন্ট, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। রমনা বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ধাপে ধাপে গুলশান বিভাগ পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়। মূলত সেই সব প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যারা সড়কের ওপর স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে জনসাধারণের পথ দখল করে রেখেছেন।
এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রান্নার সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য পণ্য রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হবে উল্লেখ করে এই পুলিশ কমিশনার বলেন, ভবিষ্যতে হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনেক ওয়ার্কশপ ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গাড়ি মেরামত করছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামছেন। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।
যারা এখনো অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


