কলকাতার বহু অভিনেত্রী ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করেছেন। অনেকের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে এখানে অভিনয় করার পর থেকে। সে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সুস্মিতা চ্যাটার্জি। ঈদের সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদের বিপরীতে তাকে দেখা গেছে। ছবিটিতে তার উপস্থিতি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে। যা তার কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে জানান।
নিজের ছবি মুক্তি উপলক্ষ্যে কলকাতা থেকে ঢাকায় উড়ে এসেছিলেন সুস্মিতা। অল্প কয়েকদিনের সফরে তিনি হলে হলে ঘুরে দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। ‘অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। তারা আমাকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছেন যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অভিষেক সিনেমাতে এভাবে আমাকে গ্রহণ করবেন ভাবতে পারিনি,’—বলেন সুস্মিতা।
‘রাক্ষস’ সিনেমায় তার চরিত্রটি নিয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী, তবে এটিকে একই সঙ্গে কঠিন বলেও মনে করেন। ‘চরিত্রটা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিংও। শুরুতে একভাবে দেখলেও পরবর্তী সময়ে অন্যভাবে পাবেন।’ বিশেষ করে সংলাপ ছাড়াই অভিব্যক্তির মাধ্যমে অভিনয় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তিনি।
ঈদের দিন সকালে বাংলাদেশে এসে স্বল্প সময় কাটিয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) কলকাতায় ফিরে গেছেন এই অভিনেত্রী। তবে শিগগিরই সিনেমাটির প্রিমিয়ারে অংশ নিতে আবার ঢাকায় আসার ইচ্ছা রয়েছে তার। এই সংক্ষিপ্ত সফরেও বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি। ‘কখনো মনে হয়নি অন্য একটি দেশে আছি। সবসময় মনে হয়েছে নিজের বাড়িতে আছি।’
কলকাতার সহকর্মীরাও তার এই নতুন যাত্রায় খুশি। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই তিনি শুভেচ্ছা পেয়েছেন অনেকের কাছ থেকে। বিশেষ করে জিৎ ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘সব সময়ই তিনি আমার কাজের ভালো-মন্দ ফোন করে জানান,’—বলেন সুস্মিতা।
এর আগে কলকাতার ইধিকা পাল, শুভশ্রী, শ্রাবন্তী, পায়েল, সায়ন্তিকা বাংলাদেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার আগ্রহ আছে কিনা শাকিবের সঙ্গে কাজ করার? উত্তরে বলেন, ‘অবশ্যই তার সঙ্গে কাজ করতে চাই। শাকিব খান মেগাস্টার। তার সঙ্গে সব নায়িকাই কাজ করতে চাইবেন—আমিও এর ব্যতিক্রম নই।’
ঢাকায় ঘোরাঘুরির ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে দিতেই তা সম্ভব হয়নি। তবে বিরিয়ানিসহ অনেক খাবারের স্বাদ নিয়েছেন। ‘পরবর্তী সময়ে আবার যখন আসব তখন ঘুরে দেখব’,—জানালেন তিনি।
বাংলাদেশে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছা স্পষ্ট করে সুস্মিতা বলেন, ‘আমার নিয়মিত কাজের আগ্রহ আছে। ভালো গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে অবশ্যই কাজ করব।’
কলকাতায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। একটি নতুন থ্রিলার সিনেমার অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এবং সামনে রয়েছে আরও নতুন ছবি।
সুস্মিতার অভিনয়জীবনের শুরুটাও বেশ নাটকীয়। মফস্বলে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল অভিনেত্রী হওয়ার। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতায় তাকে আগে পড়াশোনা শেষ করতে হয়। ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে হায়দরাবাদে একটি বড় কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ পেয়েও সেটি ছেড়ে দেন তিনি। পরিবারকে বুঝিয়ে সময় নেন স্বপ্ন পূরণের জন্য। ‘তারা দুই বছর সময় দেন। তার আগেই স্বপ্ন পূরণ হয়।’
ব্যক্তিগত জীবনে বর্তমানে নিজেকে ‘পিউর সিঙ্গেল’ বলেই পরিচয় দেন সুস্মিতা। অতীতে তার একটি দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল, যা কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। গুঞ্জন ওঠা বিভিন্ন সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। পরিচালক সৃজিত মুখার্জি কিংবা মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্কের খবরকে তিনি সরাসরি গুজব হিসেবে উড়িয়ে দেন।


