চলতি অর্থবছরে আয়ে রেকর্ড গড়েছে কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। এ বছর ৯০২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে এই ইপিজেড।
২০০০ সালে কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থা এলাকায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবারই এই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে ইপিজেড থেকে।
কুমিল্লা ইপিজেডে ৪৬টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। গত তিন অর্থবছরে এটি দুই হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এখানে রপ্তানি না বেড়ে কমে গিয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৮১৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৯০ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭১১ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৯০২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় তা বিগত বছরগুলোর চেয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার বেশি।
কুমিল্লা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহবুব জানান, এ প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মী আছেন তারাই এই রেকর্ডের বেশি অংশীদার।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ছাড়াও বিভিন্ন উপহার ও বোনাস দিয়ে আরও কর্মোদ্যমী করে তুলছে, বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা বাড়ছে। যে কারণে যেকোনো অর্ডার নিতে সহজ হচ্ছে কোম্পানিগুলোর জন্য।’
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা ইপিজেডের ডেনিম প্যান্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শুর্তি টেক্সটাইল বিডি লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘যেহেতু কুমিল্লা ইপিজেডে স্বল্প বেতনে তুলনামূলক দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় তাই অঞ্চলটির প্রতি বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের আগ্রহ বেশি। রপ্তানির যে রেকর্ড হয়েছে তার পেছনের কারিগর এসব কঠোর পরিশ্রমী কর্মীরাই।
কুমিল্লা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক এএইচএম এরশাদুর রহমান বলেন, ‘করোনাকালীন অনেক অর্ডার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কারও দিকে তাকায়নি। অন্যদিকে যুদ্ধরত দেশ আমদানি-রপ্তানি ছেড়ে সামরিক দিকে নজর দেয়। ইউক্রেন-রাশিয়ার সঙ্গে অনেক দেশ ব্যবসায় যুক্ত। যে কারণে শুধু কুমিল্লা ইপিজেড নয়, সব দেশকে বিপাকে পড়তে হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্য রপ্তানি বাড়ে। ফলে বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা অর্ডার বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে রপ্তানি বেড়েছে।
কুমিল্লা ইপিজেডে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৪৬ প্রতিষ্ঠান। উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সোয়েটার, ফেব্রিক্স, টেক্সটাইল ডাইজ অ্যান্ড অক্সিলিয়ারিজ, ইলেকট্রনিকস পার্টস, এলিমেনেটিং ব্রাশ, ফুটওয়্যার ও ফুটওয়্যার অ্যাপারেলস, ক্যামেরা কেস, ব্যাগ, ইয়ার্ন, প্লাস্টিক পণ্য, হেয়ার ও ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ, মেডিসিন বাক্স, আই প্যাচ, কার্পেট, গ্লাভস, লাগেজ, মেডেল, পেপার প্রোডাক্ট ইত্যাদি।


