রংপুর অঞ্চলে এবার চিনা বাদামের উৎপাদন ও বাজারমূল্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে এই এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের চিনা বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম গড়ে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দাম পেয়ে আনন্দিত স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ রবি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ৫ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এই জমি থেকে বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ১২ হাজার ২৪৫ টন। শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ২২১ টন বাদাম উৎপাদন হয়েছে।
কৃষকরা বর্তমানে প্রতি মণ বাদাম ৬ হাজার ৪০০ থেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সেই হিসেবে এই অঞ্চলে এবার মোট ১৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার চিনা বাদাম বিক্রি হবে। এটি এই অঞ্চলের ইতিহাসে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের চাষী আকাশ হোসেন জানান, এবার প্রতি একর জমিতে ২৮ থেকে ৩২ মণ চিনা বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। একর প্রতি বাদাম চাষে তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি প্রতি একরে এক লাখ টাকা লাভ করেছেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের চাষী জহুরুল ইসলাম ফেরদৌসও ভালো ফলন ও দাম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এবার চিনা বাদামের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। পাইকারি বাজারে তিনি গড়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বাদাম বিক্রি করছেন। গত বছর এই সময়ে চিনা বাদামের দাম ছিল মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষকরা এবার ৫ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছেন। এই পরিমাণটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হেক্টর বেশি। বাদাম তোলা শেষে দেখা গেছে, প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ দশমিক ১৩ টন হারে মোট ১২ হাজার ২২১ টন উৎপাদন হয়েছে।
চিনা বাদামের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সাদেকুর রহমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার কারণে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাচ্ছেন।
সঠিক ফসলের নকশা ও মিশ্র আবর্তন পদ্ধতি ব্যবহার করে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও মূল জমিতে বাদাম চাষ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান সাদেকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য শিল্পে চিনা বাদামের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই চাহিদার কারণেই রংপুর অঞ্চলে প্রতি বছর বাদামের চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবাদে কৃষকদের আগ্রহ ধরে রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে মাঠ পর্যায়ে ভালো মানের বীজ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত রাখতে হবে।


