রংপুরে শিলাবৃষ্টি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষক

রংপুরে শিলাবৃষ্টি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষক
ছবি: এআই
Advertisement
Advertisement

আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন রংপুর বিভাগের কৃষকরা। তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ গোটা বিভাগে উঠতি আগাম পাকা বোরো ধান, তামাক, ভুট্টা, শাক-সবজির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ আঘাত হানে। এতে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া যায়।

ঝড়ো ও দমকা হাওয়া এবং শিলা বৃষ্টিতে কৃষি খেত এবং গাছ-গাছালি উপড়ে যাওয়ার পাশপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায়ে থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় শিল বৃষ্টিতে উঠতি আগাম বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ধান এক সপ্তাহের মধ্যে গোলায় তুলতেন কৃষকরা। পাকা ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

রংপুর গংগাচড়ার মরনেয়ার চাষী মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চার বিঘা জমির ধান প্রায় ৬০ ভাগ শিলাবৃষ্টির কারণে মাটির সঙ্গে শুয়ে গেছে। অনেক ধান মাটিতে পড়ে গেছে। ধার দেনা করে আমরা ধান ফলাই। সেই ধান বিক্রি করে, ধার দেনা শোধ করি এবং ৬ মাস ভাত খাই। কিন্তু এবার যে পরিস্থিতি নিয়ে যেতে পারবো না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

বড় আকারের শিলার আঘাতে ভুট্টা গাছও ভেঙে পড়েছে। মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়েছে অসংখ্য ফসল। শিলার আঘাতে ফুটো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে তামাকের পাতা।

আরও পড়ুন

দমকা ঝড় ও বাতাস সাথে শিলার আঘাতে ঐতিহ্যবাহী হাড়ি ভাঙ্গাসহ আম এবং লিচুর কচি মুকুল ও ফল ঝরে গেছে। তছনছ হয়ে গেছে অনেক সবজির খেত।

কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির কারণে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় অনেক এলাকার বৈদ্যুতিক লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন ছিল।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা গ্রামের হামিদুল ইসলাম জানান, প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি ভুট্টা চাষ করেছেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে অর্ধেকেরও বেশি জমির ভুট্টা মাটিতে হেলে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জেলার অনেক এলাকায় আগাম ধান আবাদ হওয়ায় চলতি সপ্তাহে সেখানে ধান কাটা মারাই শুরু হতো। কিন্তু ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করছেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সিনথিয়া জাহান জানান, শনিবার থেকে বৃষ্টির সঙ্গে শিলা ও ঝড়ো হওয়া অব্যাহত রয়েছে। সে কারণে এই কৃষি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ধান ভুট্টা তামাকসহ শাকসবজির বিভিন্ন আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে তালিকা তৈরীর কার্যক্রম চলছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শিলা বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং কৃষি সহায়তা দেওয়া হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad