হত্যা মামলার পর সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো.আমজাদ হোসেন তালুকদার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
গত মঙ্গলবার থেকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তিনি পাঁচ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তার আগেও হত্যা মামলায় ১২ দিনের রিমান্ডে ছিলেন মাঞ্জিল হায়দার।
আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে যেগুলো সম্পূর্ণ নয়। তারাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেই সময় নির্যাতন করেছেন। এই মামলায় তার সাথে আরও কারা সম্পৃক্ত তা জানতে আরও রিমান্ড দরকার।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে টানা ১২ দিন রিমান্ডে রাখে তদন্ত কর্মকর্তা। পরে সেখানে থাকাকালীন আবার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়। মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ২১ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। তিনি যদি অসৎ হতেন আওয়ামী সময়ে মেজর পদে থাকতে হতোনা
তিনি এখন খুব অসুস্থ, হার্টে ব্লক আছে। কোনও সেনাবাহিনী অভ্যূথ্যানের বিপরীতে জান নাই এটা সবাই জানে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে রিমান্ড নামঞ্জুর চাচ্ছি।
গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় পরের দিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সোমবার তাকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার মাঞ্জিল হায়দারকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর মাঞ্জিল হায়দারকে রমনা মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের ধানমন্ডি জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আবেদনে বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দার ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ প্রধানমন্ত্রীর, পলাতক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকির ঘনিষ্টজন হওয়ার সুবাদে তাদের আলোচনা ও পরামর্শে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা য়ায়। তার ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের নির্দেশনায় সরকারকর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ ও তাদের সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনকে নিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় ষড়যন্ত্র করে। আসামি তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কু-মন্ত্রনা দিতেন বলে জানা যায়। মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে মাঞ্জিল হায়দারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলেও তদন্তের সময় জানা যায়।


