রংপুরে কৃষকলীগ নেতা বেলাল হোসেন লাভলুর সুপারিশে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শাহ মনিরের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া তোফাজ্জল হোসেনকে বাদী করে এ মামলা নেন ওসি আতিকুর। এ ঘটনার প্রতিবাদে বদরগঞ্জ থানা থেকে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
মনিরুজ্জামান মনির দৈনিক পরিবেশের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি। তার বাবা বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ শাহ। একই মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত রোববার সকালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল আজিজ শাহকে আটক করে মারধর করেন বিষ্ণুপুর খাগড়াবন্দ এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা শওকত আলী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন এবং তাদের সমর্থকেরা।
এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এ ঘটনায় শওকত আলী, তোফাজ্জল হোসেনের নাম উল্লেখসহ অন্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন সাংবাদিক মনিরুজ্জামান।
তবে ওই মামলায় জামিন না নিয়ে থানায় উপস্থিত হন তোফাজ্জল হোসেন। তিনি ওসি আতিকুরের উপস্থিতিতে মনিরুজ্জামানকে প্রধান আসামি ও তার বাবা আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। এ সময় বাদী তোফাজ্জল হোসেন স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা বেলাল হোসেন লাভলুকে সুপারিশের জন্য সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন মনিরুজ্জামান।
তার দাবি, তোফাজ্জল হোসেন নিজে একটি মামলার দুই নম্বর আসামি হলেও জামিন না নিয়ে ওই কৃষকলীগ নেতার দাপটে ওসির রুমে গিয়ে মামলাটি রেকর্ড করান। তবে কৌশলে মামলার এজাহার ভাগিনা রবিউল ইসলামের মাধ্যমে থানায় জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোন কৃষক লীগ নেতা এবং মামলার বাদী তোফাজ্জল হোসেন থানায় আসেননি। বরং তোফাজ্জল হোসেন তার ভাগিনার মাধ্যমে এজাহার দিয়েছেন।’
ওসি অস্বীকার করলেও ঘটনার সময় থানায় উপস্থিত থাকায় তোফাজ্জল ও কৃষক লীগ নেতার থানায় উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১২টার কিছুটা আগে আমি নিউজ এর কাজে থানায় যাই। তখন দেখি কৃষকলীগ নেতা বেলাল হোসেন লাভলু এবং তোফাজ্জল হোসেন ওসির রুম থেকে বের হচ্ছেন।’
‘তারা যখন থানা থেকে বের হয়ে যান তখন থানার সামনে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পরে আমি শুনতে পাই সাংবাদিক মনিরের নামে তারা মামলা করে ওসির রুম থেকে বের হলেন। এই ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই’, যোগ করেন মোস্তাফিজ।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ওসির যোগসাজশ থাকার দাবি করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার বাবাকে তারা মেরে রক্তাক্ত করেছে, হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সেই মামলার কোন আসামিকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে নিতে ওসি বেলাল হোসেন লাভলু এবং তোফাজ্জল হোসেনকে রুমে বসিয়ে আমাকে প্রধান আসামি বানিয়ে বাবা সহ আটজনের নামে মামলা রেকর্ড করলেন।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পরেও থানার ওসি যদি প্রকাশ্যে এই কাজ করেন তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়?’
মামলার বিষয়ে রংপুর পুলিশ সুপার আবু সায়েম জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে হয়রানিমূলক মামলায় ওসি জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত কোনো নেতার তো এলাকাতেই থাকার কথা না। কিন্তু কিভাবে তিনি থানায় গিয়ে প্রভাব বিস্তার করে মামলা রিপোর্ট করালেন, এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন দুলাল বলেন, ‘এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে ওসিকে অপসারণ করতে হবে। প্রেসক্লাবে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে নামব আমরা।’


