রংপুরে ইজারাদারের সাতজন হাসিল আদায়কারীকে আটক এবং বিভিন্ন হাটে অভিযান চালিয়ে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নগরীর লালবাগ হাট থেকে ওই সাতজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকরা হলেন মো. মজিবর রহমান, হাসান বাবু, ফাহিম আহমেদ সিফা, মো. মাসুদ রানা, সাইদুর রহমান সিয়াদ, ফিরোজ আহমেদ এবং মো. দুলু মিয়া। তারা সবাই হাট ইজারাদারের নিযুক্ত কর্মী।
মহানগর পুলিশের ডিসি (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘লালবাগ হাটে গিয়ে দেখা যায়, এই চক্রটি ক্রেতার কাছ থেকে ৮০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে জোরপূর্বক অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছে। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে তাদের আটক করা হয় এবং পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ নগরীর প্রতিটি হাটে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের দায়ে গত দুই দিনে জেলার ২১টি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ইজারাদারদের সতর্ক করা হয়েছে।
ডিসি অফিস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাটে ৬৪ হাজার টাকা, গজঘণ্ট হাটে ১০ হাজার, মিঠাপুকুরের বৈরাতি হাটে ৫০ হাজার, জায়গীর হাটে ৩০ হাজার, সদরের পানবাজার হাটে ৩ হাজার, নিশবেতগঞ্জ হাটে ৩ হাজার, তারাগঞ্জ হাটে ৮ হাজার, পীরগঞ্জের জামতলা হাটে ৩০ হাজার, চতরা হাটে ১৪ হাজার, কাউনিয়া হাটে ৭ হাজার এবং বদরগঞ্জ হাটে ৬ হাজারসহ বিভিন্নহাটে ২১ টি হাটে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্রেতার কাছ থেকে প্রতি গরু-মহিষে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য সর্বোচ্চ ২২০ টাকা হাসিল নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার আইন নেই। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের সাড়ে পাঁচ শতাধিক হাটে ক্রেতাদের কাছ থেকে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বিক্রেতাদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, হাটবাজারগুলোতে শক্ত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অভিযোগের প্রমাণ মিললেই জরিমানা করা হচ্ছে।


