রাশিয়ার একতরফা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের তিন দিন আগেই ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় নিহত হয়েছেন সাতজন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একটি গাড়ি মেরামতের দোকান ও আবাসিক ভবনে আঘাত হানা এই হামলাকে চলতি বছর শহরটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, রুশ হামলায় জাপোরিঝঝিয়ায় ২০ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্রামাতর্স্ক শহরে ছয়জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এটি দনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন শেষ প্রধান শহর।
দিনিপ্রো শহরে রুশ হামলায় নিহত হয়েছেন আরও চারজন।
রাতভর রাশিয়ার হামলায় পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনজন কর্মী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন বলে জানান নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী সেরহিয় কোরেৎস্কি ।
তিনি বলেন, ড্রোন ও বলিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে এই যৌথ হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে একতরফা দুইদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও তা কার্যকরের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে ‘নির্লজ্জ ও অর্থহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিশ্চিতভাবে নির্মম ও অর্থহীন সন্ত্রাসী হামলা, যার কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই। আমাদের শহর ও গ্রামে এ ধরনের হামলা একদিনের জন্যও থামে না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদযাপনের সঙ্গে মিল রেখে আগামী ৮ ও ৯ মে ইউক্রেনে একপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জবাবে ইউক্রেনও বুধবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। তবে মস্কো কিয়েভের এ প্রস্তাবে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাশিয়া সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তবে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪টি ড্রোন ১৪টি স্থানে আঘাত হানে।
অন্যদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ক্রিমিয়ার জাঙ্কই শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া রাশিয়ার চুভাশ প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।
একই দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের কিরিশি শহরের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলা চালায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাত ঘণ্টার মধ্যে ক্রিমিয়া ও অন্য অঞ্চলে ৯৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।


