মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরানকে ১৫ দফার পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কাজেই তারা দ্রুত এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির সেনাপ্রধান অসীম মুনির ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরান কর্তৃপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এরইমধ্যে যুদ্ধ বন্ধের ১৫ শর্ত সম্বলিত পরিকল্পনাটি তার মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মু্নির সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তার দেশ এই যুদ্ধ বন্ধে সংলাপের সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনে আলোচনার আয়োজক হতে প্রস্তুত। এছাড়া মিশর ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
তবে ইরানের ঠিক কতজন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছেছে বা তারা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে এটিকে গ্রহণ করবে কি না- তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ায়, বর্তমান নেতাদের পক্ষে যুদ্ধপরিস্থিতিতে সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনিসহ আরও অসংখ্য নেতা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে থাকায় তাদের মধ্যে যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে ইরানে কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরান কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা- নেতারা একত্রে বৈঠক করলে ইসরায়েল সে সুযোগে হামলা চালাতে পারে।
এমনকি, ইসরায়েল তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সঙ্গে একমত কি না, তাও নিশ্চিত নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আশপাশের আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
তেহরান বারবার পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাদের কাছে এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামুদ্রিক রুট নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পশ্চিমা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে, যুদ্ধ শিগগিরই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনীতিকরা। ইসরায়েলের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


