লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহত ২৫৪
ইসরায়েল বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। লেবানিজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১ হাজার ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন যে, লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার বৈরুতে এই ব্যাপক হামলা চালানো হয়। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বেরি জানিয়েছেন, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি, বেকা উপত্যকা, মাউন্ট লেবানন, সিদন এবং দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামে হামলা চালানো হয়েছে। জনবহুল এসব এলাকায় হামলার ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই অপরাধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় পরীক্ষা এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের প্রতি এক চরম অবজ্ঞা। ইসরায়েল নিরন্তরভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে এসব নিয়ম লঙ্ঘন করে চলেছে।’
ইসরায়েলের এই বিমান হামলার আগে হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ইসরায়েলে হামলা স্থগিত রেখেছে। তবুও, ইসরায়েল মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালায়।
তেহরান জানিয়েছে, লেবানন ফ্রন্টও যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবানন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় নেই। হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক লিজ ল্যান্ডার্সের বরাতে জানা গেছে, চুক্তির বাইরে রাখার কারণ হিসেবে তিনি হিজবুল্লাহকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, “হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।”
ট্রাম্প ইসরায়েলের লেবাননে চলমান বিমান হামলার বিষয়ে প্রশ্নে এটিকে “একটি স্বতন্ত্র সংঘর্ষ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক হতে পারে শুক্রবার: শেহবাজ
পাকিস্তানে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে দেশ দুটির কোন কোন প্রতিনিধি অংশ নেবেন, তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য মেলেনি।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে পাকিস্তানের দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ‘খুব শিগগিরই’ হবে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জে ডি ভ্যান্স তাতে অংশ নাও নিতে পারেন।
লেবাননে ১০ মিনিটে ১০০ হামলা ইসরায়েলের, শতাধিক হতাহত
লেবাননে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি বিমান হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল-জাজিরাকে জানান, এসব হামলায় রাজধানী বৈরুত ও আশপাশের হাসপাতালে নিহত ও আহতদের ভিড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
লেবানন রেড ক্রস জানিয়েছে, হামলাকবলিত এলাকা থেকে আহতদের সরিয়ে নিতে তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে।

লেবাননে আল-জাজিরা আরবি বিভাগের ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, আজকের হামলা রাজধানীবাসীর মনে ১৯৮২ সালে বৈরুতে ইসরায়েলের আগ্রাসনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ইসরায়েলের এই হামলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ হামলা সব ধরনের মানবিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করেছে এবং ইসরায়েলের ‘কলঙ্কিত ইতিহাসে’ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিকে অগ্রাহ্য করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান দাবি করে আসছে, লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, কোনো আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হরমুজে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন হবে না: হেগসেথ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরার
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না, তবে নতুন করে বাহিনী পাঠানোরও পরিকল্পনা নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “মার্কিন সেনারা আশপাশেই থাকবে” মন্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, সেনারা তাদের বর্তমান অবস্থানেই প্রস্তুত ও সতর্ক থাকবে। যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে এবং শিগগিরই সেখানে স্বাভাবিক নৌচলাচল শুরু হবে।
হেগসেথের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, যা দেশটিকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ৪০ দিনেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মাত্র ১০ শতাংশ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তার মতে, তেহরান নিজেকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সব লক্ষ্য অর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে ইরান
বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে ইরান। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক পর্যায়ে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর আকাশসীমা খুলে দিল ইরাক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশের আকাশসীমা ফের খুলে দিয়েছে ইরাক। দেশটির সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমা এবং সব বিমানবন্দর পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।
ইরাকি নিউজ এজেন্সিতে (আইএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর ইরাকের আকাশসীমা আজ থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই পদক্ষেপের আওতায়, সব বেসামরিক বিমান চলাচল আবার শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিমানবন্দরে সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ পরিচালিত হবে।’
কর্তৃপক্ষ তার ‘বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অবিরাম সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে ঘোষণা দেয়।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল 'গো হারা হেরেছে': রাশিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘গো হারা হেরেছে’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
স্পুতনিক রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর “একপাক্ষিক, আক্রমণাত্মক ও উসকানিবিহীন” হামলা চালিয়ে যুদ্ধের সূচনা করেছিল। ইরানের শক্ত প্রতিরোধের মুখে যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “চূর্ণবিচূর্ণ পরাজয়”।’
রাশিয়া যুদ্ধের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে জাখারোভা বলেন, ‘আমাদের দেশ শুরু থেকেই বলেছিল, এই অযাচিত আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং এভাবে অঞ্চলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কোনো প্রচেষ্টাও সফল হবে না।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী যুদ্ধাবসানে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ‘বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ শুরু করা জরুরি বলেও মনে করেন জাখারোভা।
পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় থাকতে পারেন যারা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে মধ্যাস্থতাকারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে আগামী শুক্রবার শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে উপস্থিতি থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তি আলোচনা শুরু করতে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা কাঠামোয় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং প্রায় ৪৫ বছর ধরে ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক, গৌণ ও জাতিসংঘের চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে আসবে এবং সেখানে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি উভয় দেশের নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তাদের প্রতিনিধিদলকে শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’
পাকিস্তান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও সংবেদনশীল অবস্থান তুলে ধরেছে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, “ইসলামাবাদ আলোচনা” টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের সঙ্গে আরও সুসংবাদ ভাগ করে নিতে পারব।’
ইরানে অভিযান বন্ধ ইসরায়েলের, যুদ্ধবিরতি মেনে নিল হিজবুল্লাহ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী আইডিএফ-এর বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছে।
তবে লেবাননের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরানের বিরুদ্ধের যুদ্ধের জের ধরেই লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজুবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল।
তবে ইরানের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সঙ্গে লেবাননের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে আইডিএফ জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের ‘যুদ্ধ ও স্থল অভিযান’ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহ নেতারা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ লেবাননের তিনটি সূত্র।
তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখলেও হিজবুল্লাহ যুদ্ধ থেকে সরে আসার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বুধবার ভোর থেকেই হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল ও লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের হামলা জারি রেখেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে ইসরেলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, ‘এটি খুবই ভালো একটি বিষয়। তবে লেবাননের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’
নেতানিয়াহু 'রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ' হয়েছেন, দাবি বিরোধী নেতার

ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ায়ির লাপিদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ” হয়েছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।
লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের ইতিহাসে এ ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় আগে কখনো ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুদ্ধ চলাকালীন তা থেকে সরে আসার মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরায়েলকে সেই টেবিলেও রাখা হয়নি।’
‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই সব কাজ সফলভাবে পালন করেছে যা তাদের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। আমাদের জনগণও পুরো যুদ্ধে অসাধারণ সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ, কৌশলগতভাবে ব্যর্থ এবং নিজের নির্ধারিত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি’, যোগ করেন দেশটির বিরোধী নেতা।
লাপিদের ভাষায়, ‘অহংকার, অবহেলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবের কারণে নেতানিয়াহুর সৃষ্টি করা রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি মেরামত করতে আমাদের বহু বছর সময় লাগবে।’
সূত্র: আল জাজিরা
আয়তুল্লাহ খামেনি হত্যার ৪০তম দিনে কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিন পালনের ধর্মীয় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ নিহত হন খামেনি। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ইরান।
ইরান ও ইসলামি ধর্মীয় রীতিতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪০তম দিন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এইদিন ঘিরে খামেনির হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।
এদিকে আয়তুল্লাহ খামেনিকে হত্যার ৪০তম দিনেই ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাজেই দিনটি ইরানিদের জন্য অন্যরকম গুরুত্ববহন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের উপহাস হতে পারে। তিনি হয়তো দেখাতে চাইছেন ইরানের ওপর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওয়াশিংটনই নির্ধারণ করছে ইরানিরা কবে, কীভাবে শোক পালন করবে, কবে উল্লাস।
অন্যদিকে আয়তুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পর তিনিও প্রথমবারের মতো বাবা আয়তুল্লাহ খামেনির স্মরণ সভায় উপস্থিত হয়ে জাতিকে নতুন দিক নির্দেশনা দেবেন।
সূত্র: আল জাজিরা
মুক্তি পেয়ে ইরাক ছাড়লেন অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসন

ইরাকের বাগদাদে অপহৃত মার্কিন নারী সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর হাতে অপহৃত সাংবাদিক কিটলসনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তার মুক্তি নিশ্চিত করতে পেন্টাগন, এফবিআই এবং ইরাকের সর্বোচ্চ বিচারিক পরিষদের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পক্ষ সহযোগিতা করেছে বলেও জানান তিনি।
গত মার্চের শেষ দিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রকাশ্যে কিটলসনকে অপহরণ করা হয়।
রুবিও বলেন, ‘এই মার্কিন নাগরিক মুক্ত হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি এবং তাকে নিরাপদে ইরাক ত্যাগে সহায়তা করছি।’
এর আগে, কিটলসনকে অপহরণের দায় স্বীকার করে কাতাইব হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেবে তবে তাকে অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করতে হবে।
ইরাকের এক সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা জানান, ইরাক সরকার এবং প্রভাবশালী কয়েকজন শিয়া নেতার তৎপরতা ও চাপ প্রয়োগের ফলে এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানিয়েছে, কিটলসন মূলত রোমভিত্তিক একজন মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হয়ে লেখালেখি করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার কাতাইব হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিটলসনকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। যদি ভিডিওটি সত্য হয়, তবে অপহরণের পর এটিই হবে কিটলসনের প্রথম প্রকাশিত ছবি।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিটলসন পরিচয় দেওয়া এক নারী অতি সাধারণভাবে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে সরাসরি ক্যামেরার দিকে কথা বলছেন। তবে এটি কোথায় বা কখন ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরায়েলি-রুশ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এলিজাবেথ সুরকভ গবেষণার কাজে ইরাকে গিয়ে কাতাইব হিজবুল্লাহর হাতে অপহৃত হন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজে জাহাজের জট মোকাবিলায় সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ চলাচলের চাপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম মজুত করবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে অবস্থান করবে।’
‘প্রণালিতে সবকিছু ঠিকভাবে চলছে তা নিশ্চিত করতে আমরা সেখানেই থাকব’, যোগ করেন ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতির এই সুযোগে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে তা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তবে প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ঠিক কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হরমুজ খুলে দিলেই ইরান “বড় অঙ্কের” অর্থ উপার্জন করতে পারবে এবং তা দিয়ে ইরান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।’
এর আগে বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করবে ইরান। তা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনের অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
ইরানের ১০ দফা শর্তে যা আছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইরান। আগামী শুক্রবার মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নির্ধারিত বৈঠক এই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, তেহরানের প্রণয়ন করা ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছে। এটি “কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কাজ করার উপযোগী ভিত্তি” হতে পারে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে ১০ দফা শর্ত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১। ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
২। ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পথ তৈরি করতে হবে।
৩। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো নিষিদ্ধ করা হবে।
৪। দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে হরমুজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইরান এবং তাদের ঘোষিত নির্দেশিকা অনুসরণ করে জাহাজ চলাচল করবে।
৫। ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা—প্রাথমিক, গৌণ এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
৬। যুদ্ধজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠন করতে হবে।
৭। ইরানের পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করবে এবং ইউরেনিয়ামসহ পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণ মাত্রা নিয়ে আলোচনা হবে।
৮। ইরানকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি দেওয়া হবে।
৯। মধ্যপ্রাচ্যের সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতি ‘অ-আগ্রাসন নীতি’ সম্প্রসারণ করা হবে।
১০। উপরোক্ত সব শর্ত জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন দিতে হবে।
এদিকে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা প্রস্তাবিত ১০ শর্তের যে ইংরেজি অনুলিপি সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন তার সঙ্গে সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ফরাসি ভাষার অনুলিপিতে সামান্য অমিল রয়েছে বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ইরানের ১০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার ফার্সি ভাষার সংস্করণে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বৈধ অনুমোদনের লক্ষ্যে ‘সমৃদ্ধকরণ গ্রহণযোগ্যতা’ বাক্যাংশটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইংরেজি সংস্করণে এই কথা অনুপস্থিত ছিল।
কেন এই শব্দটি ইংরেজি সংস্করণে রাখা হয়নি, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু আগে থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধ করাকে এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরান ফারসি ভাষায় ১০ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর ট্রাম্প এটিকে ‘প্রতারণামূলক’ বলে অভিহিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইরানের কর্মকর্তারাও তেহরানের প্রকাশিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ইংরেজি ও ফার্সি সংস্করণের মধ্যে থাকা এই অসামঞ্জস্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র 'পূর্ণাঙ্গ জয়' পেয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ জয়‘ অর্জন করেছে।
মঙ্গলবার এফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একথা বলেন। এই যুদ্ধবিরতিকে নিজের ‘বিজয়’ দাবি করছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ জয়। শতভাগ। এতে কোনো প্রশ্ন নেই।’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছে, একে ‘কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কাজ করার উপযোগী ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংসের হুমকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ‘সামনে আপনারা সবই দেখতে পাবেন।’
ইরানের পারমাণবিক উপকরণ যেকোনোভাবে শান্তি চুক্তির আওতায় আসবে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সেদিকে পুরোপুরি নজর রাখা হবে, তা না হলে আমি চুক্তিতে সম্মত হইনি।’
এই যুদ্ধের জন্য সময়সীমা এবং লক্ষ্য পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যগুলি অর্জিত হয়েছে।
'ইরান এক মহান বিজয় অর্জন করেছে'

ইরানি জাতির সাহসিকতার কাছে শত্রুপক্ষ চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
এতে বলা হয়, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুর কাপুরুষোচিত, অবৈধ ও অপরাধমূলক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ এক অনস্বীকার্য, ঐতিহাসিক এবং চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরান শত্রুর বিরুদ্ধে এক মহান বিজয় অর্জন করেছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই রাতজুড়ে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎসব করেন ইরানের জনগণ।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ডেথ টু আমেরিকা, ডেথ টু ইসরায়েল’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে তেহরান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের বড় ধাক্কা ইরানকেই বহন করতে হয়েছে। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তাই দুই সপ্তাহের জন্য হলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াকে ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশটির সরকারপন্থীরা অবশ্য বলছেন, যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও ইরানের শর্তেই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে। জনগণের প্রতি দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়েছে। শত্রুরা হার না মেনেও হেরে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানে যুদ্ধবিরতি স্বাগত জানায় জাতিসংঘ: মহাসচিব গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়, গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের দায়িত্ব পালন এবং যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী ও সমন্বিত শান্তির পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
গুতেরেস বলেন, ‘বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং মানবিক দুর্ভোগ কমাতে এখন পারস্পারিক দ্বন্দ্বের অবসান জরুরি।’
দুজারিক জানান, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সব ধরনের সহায়তা করতে সেখানে অবস্থান করছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূত জাঁ আর্নো। তিনি প্রতি মুহূর্তে শান্তি চুক্তির আলোচনার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সূত্র: এপি
ইরানে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে লেবাননের সম্পর্ক নেই, যুদ্ধ চলবে: নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সঙ্গে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
তার দপ্তরের পক্ষ জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে কোথাও ‘লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি’।
বুধবার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান যেন আর কখনো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্বে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে- এ লক্ষ্য নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সমর্থন করে।’
আসন্ন আলোচনায় এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন বলে দাবি করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন পড়ছে না।’ দেশটির ইসরায়েল ও ইহুদিবিরোধী সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইডিএফ-এর সামরিক অভিযান চলবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
অবশ্য নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন- যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘লেবাননসহ’ সব জায়গায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ করা হবে বলেও জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার নির্দেশেই এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল ইসরায়েল। তবে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিজের। তারা কয়েক যুগ ধরে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা বার বার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এবারও ব্যতিক্রম কিছু ঘটছে না।
সূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতিকে ‘জয়’ হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউস
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এসব ‘ঘটিয়েছে’।
লেভিট বলেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যুদ্ধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ চলবে এবং এই ৩৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল সামরিক লক্ষ্যগুলি অর্জন করেছে এবং তার থেকে বেশি সফলতা পেয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সফলতা অনেক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দল কঠিন আলোচনা চালাতে সক্ষম হয়েছেন এবং এখন তারা একটি কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।’
‘এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেলের দামে পতন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই তেলের দামে পতন দেখা দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স হোলমস আল জাজিরাকে জানান, ‘বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে এবং তেলের দাম কমে গেছে, তবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে বেশি নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল, ইরান এবং অন্যান্য পক্ষের কাছ থেকে কোনো সংকেতের দিকে নজর রাখতে হবে, তাতে বোঝা যাবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা।’
‘তেলের দাম যদিও কমেছে, তারপরও তা ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় অনেক বেশি,’ যোগ করেন তিনি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলার হয়েছে, আর ব্রেন্ট ফিউচারও ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯২ দশমিক ৩৫ ডলার হয়েছে।
তেহরানের বাসিন্দাদের উচ্ছ্বাস
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর আনন্দ উদযাপন করেছেন তেহরানের বাসিন্দারা। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে ইরানের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে মাঠে নেমে যুদ্ধবিরতি উদযাপন করছেন। বিশেষত রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম ও উল্লাস দেখা গেছে।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই সপ্তাহের জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। এর কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি আক্রমণ সাময়িক স্থগিত রাখবে, বদলে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেন তেহরানও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তিনি জানান, দুই সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদভাবে চলাচল সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের সঙ্গে ইরানের এই চুক্তিতে ‘লেবানন এবং অন্যান্য জায়গাও’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা


