যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত ‘এইচ-ওয়ান বি ভিসা’ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন করে আরও কঠোর যাচাই–বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার প্রকাশিত নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি আবেদনকারীর অতীত কর্মজীবনে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা’ দিয়েছেন তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় কোনো আবেদনকারীর তথ্য থেকে যদি জানা যায়, তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন কিংবা তথ্য মুছে ফেলেছেন তাহলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হবেন।
এছাড়া এইচ-ওয়ান বি ভিসায় আবেদনকারী এবং তার সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরা যদি ‘তথ্য বিকৃতি, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ (ফ্যাক্ট চেক), কমপ্লায়েন্স বা অনলাইন সুরক্ষা–সংক্রান্ত আইন বাস্তুবায়ন’ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুরক্ষিত মতপ্রকাশের’ ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয় তাহলে ওই আবেদনকারীকে ভিসার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এই নির্দেশনা পাঠিয়ে বলা হয়, এইচ-ওয়ান বি ভিসা আবেদনকারীদের জীবন বৃত্তান্ত, চাকরি জীবনের ইতিহাস এমনকি লিঙ্কডইন প্রোফাইলও খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবার সদস্যদের প্রোফাইলও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে।
অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী যেকোনো ব্যক্তির ওপরই একই নীতি কার্যকর হবে। অর্থাৎ সব ধরনের ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই এই কঠোর যাচাই-বাছাই ও বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য। তবুও নির্দেশনায় বিশেষভাবে এইচ-ওয়ান বি আবেদনকারীদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষকর্মী ভিসাধারীদের একটি বড় অংশই প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আর্থিক সেবাখাতে- যেখানে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ বা ভুল তথ্য শনাক্তকরণের মতো দায়িত্ব পালন করে থাকেন অনেক কর্মী। তাই তাদের জীবনবৃত্তান্ত আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে নতুন আবেদনকারী এবং এরইমধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় অবস্থান করছেন এবং ভিসা নবায়নের জন্য আবেদন করছেন, সবাই নতুন এই নজরদারির আওতায় পড়বেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য এইচ-ওয়ান বি ভিসা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মীরা এই ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করতে আসেন। তুলনামূলক কম বেতনে তারা উচ্চমানের সেবা দিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিখাতে দক্ষকর্মীর বেশ চাহিদাও রয়েছে।
মেটা, ওপেনএআই, স্পেসএক্স, মাইক্রোসফটের মতো খ্যাতনামা প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী (সিইও) গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন। অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই ভিসা নীতিতে দক্ষকর্মীর অভাবে তারাই সবচেয়ে ভুক্তভোগী হবেন বলে শঙ্কা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করে আসছেন। তার প্রশাসনের অভিযোগ, রক্ষণশীল বা ডানপন্থি মত প্রকাশ ইচ্ছাকৃতভাবে দমন করা হচ্ছে।
এই নতুন ভিসা নীতির আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও কঠোর যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেয়। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টও যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এইচ-ওয়ান বি ভিসার ওপর অতিরিক্ত ফিও আরোপ করা হয়।


