ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারী কাতারের দোহায় পৌঁছালেও তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেন, দুই সপ্তাহ আগে সই হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিষ্পত্তি হয়নি। সেসব বিষয় মীমাংসার আগে পরমাণু কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার মতো আরও জটিল ইস্যুতে আলোচনায় যেতে তারা প্রস্তুত নন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই বৈঠককে ‘উচ্চপর্যায়ের’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে ইরান এবং আয়োজক দেশ কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠক হবে না; বরং তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালাবেন।
কাতার জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা ব্যবস্থা নেবে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করা হবে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে। এই প্রণালিতে চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে।’
এর আগে গত ১৭ জুন সই হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা কাঠামো অনুযায়ী, আর্থিক প্রণোদনার বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে তার নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থান শিথিল করবে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন করতে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক হুঁশিয়ারিতে বলেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতির শেষ এমন হবে না যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায় করবে।’
ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে, এমনকি কিছু দিনে তা আগের তুলনায়ও বেশি হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি।


