যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে ‘অবাস্তব এবং অপমানজনক’ আখ্যা দিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ নেতাদের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত চুক্তিতে লেবাননের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে।
গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণাধীন আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে নাইম কাসেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর যে নথিটি প্রকাশ করেছে এবং যেটিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তা বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো অর্থ বহন করে না, বরং এটি আমাদের দেশের জন্য অপমানজনক।’
‘সবাই জানে, লেবানন সরকার এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য কোনো বৈঠক করেনি বা এটি অনুমোদনও দেয়নি’, যোগ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ওই নথিতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নেওয়া উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ‘ঘোষিত যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য লেবাননের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে “সৎ উদ্দেশ্যে” আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।’
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল “নিজেদের আত্মরক্ষার” জন্য যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখবে। বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান হামলার” চেষ্টা করা হলে ইসরায়েল তা প্রতিরোধে যেকোনো উদ্যোগ নিতে পারবে।
অন্যদিকে চুক্তিতে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর জন্য এ ধরনের কোনো ‘সমান অধিকার’ উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে ফের হামলা চালায় সেক্ষেত্রে হিজুবুল্লাহকে আত্মরক্ষার অধিকার দেওয়া হয়নি। বরং ইসরায়েলের হামলা ঠেকাতে লেবানন সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা ‘চুক্তিবিরোধী’ হিসেবে গণ্য হবে।
নাইম কাসেম বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির অর্থ হওয়া উচিত সব ধরনের শত্রুতার “সম্পূর্ণ অবসান” এবং হিজবুল্লাহ অবশ্যই চুক্তি লঙ্ঘনের জবাব দেবে।’


