জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অবৈধ প্রবেশ, পুলিশের উপর হামলা ভাংচুরের অভিযোগে পাঁচটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা নয়শ’ জনকে।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে শেরেবাংলা নগর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে একটি হলো ‘সংরক্ষিত এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশের’ মামলা। বাকিগুলো ‘পুলিশের ওপর হামলা’, ‘গাড়ি ভাঙচুর’ ও ‘কন্ট্রোল রুম পোড়ানোর’ মামলা। একটি মামলার বাদী ট্রাফিক পুলিশ, বাকি চারটি মামলার বাদী থানা পুলিশ।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘রণক্ষেত্র’ হয়ে ওঠে শুক্রবার দুপুরে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিজেদের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। তাদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা করে পুলিশ, ছোড়ে সাউন্ড গ্রেনেডও।

জবাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় বেশ কয়েকজন আহন হন, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় সনদ সই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা তাঁবুসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুরো এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই সনদে সই করেন।


