যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাকে শুল্কছাড় পেল বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাকে শুল্কছাড় পেল বাংলাদেশ
তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিক। ছবি: অনিক রহমান
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর আরোপিত শুল্কে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার সঙ্গে নতুন এক বাণিজ্য চুক্তি করে এই ছাড়ের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হচ্ছে।

এই শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সমান অবস্থানে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্যে বর্তমানে ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প যখন প্রথম দফার পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করেন, তখন ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয়েছিল ৩৭ শতাংশ শুল্ক।

এই ছাড় কেবল ওই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর কার্যকর হবে, যেগুলো তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা এবং কৃত্রিম সুতার তৈরি পোশাক ও কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য শুল্কে (শুল্কমুক্ত) প্রবেশাধিকার পাবে। এক্ষেত্রে কি পরিমাণ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, তা নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কি পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি করবে তার ওপর।

ওয়াশিংটন আরও জানিয়েছে, এই শুল্কছাড় নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্যও বাংলাদেশের বাজার আরও বিস্তৃত ও উন্মুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধরা হয় পোশাক শিল্পকে। চীনের পর বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি যোগান দেয় পোশাক খাত এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা চলছিল।

দুই পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের বাজারে একে অপরের জন্য ‘অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার’ নিশ্চত করবে।

সোমবার ঘোষিত এই চুক্তির অংশ হিসেবে ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত বিধিমালা এবং যানবাহনের নিরাপত্তা ও নির্গমন মানদণ্ড স্বীকৃতি দেবে। এর ফলে মার্কিন পণ্যের বাংলাদেশে প্রবেশ আরও সহজ হবে।

সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা’ দিতে রাজি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হোয়াইট হাউস জানায়, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সয়াজাত পণ্য এবং মাংসের জন্য বাজার উন্মুক্ত করাও অন্তর্ভুক্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার মেনে চলবে, পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ জোরদার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ ও জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি বহাল রাখবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর