ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে “চড়” মেরেছি, আবারও তা মারতে পারি।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও জবাব দেওয়া হবে।’
বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের আগে তিনি প্রথম ভিডিও বার্তা দেন। আর সবশেষ, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এটি তার দ্বিতীয় জনসমক্ষে বক্তব্য।
ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় জীবন সংশয়ের আশংকায় আত্মগোপনে রয়েছেন এই ধর্মীয় নেতা৷ ধারণা করা হচ্ছে, কোনো গুপ্ত বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ভিডিওতে খামেনি বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি, প্রতিরোধই আমাদের পথ, এবং এই পথ থেকে আমরা সরে আসব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের মনোবল দুর্বল করতে পারেনি।’
খামেনি জানান, ইরান প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
‘আমাদের জবাব যুক্তরাষ্ট্রকে লজ্জায় ফেলেছে,’ তিনি বলেন। ‘যদি তারা আবার হামলা চালায়, আমরা আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাব,’ স্পষ্ট হুমকি দেন খামেনি।
তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার সংসদীয় সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন।
১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মিত্রপক্ষ হিসেবে সরাসরি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম অঞ্চলে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফল হামলা উল্লেখ করেন, যদিও পরে পেন্টাগন পরে জানিয়েছে, এতে ইরানের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এর প্রতিক্রিয়ায় কাতারের যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটিতে ইরান প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলা করলে ট্রাম্প একতরফাভাবে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
এমন আবহে প্রথমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকি আর বৃহস্পতিবার খামেনি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কড়া বার্তা দিলেন।
এই ভাষণে খামেনি ইরানিদের একতা ও প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ইরান তার নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত।


