মৌলভীবাজারের শেভরন বাংলাদেশের কনডেনসেট তেলবাহী পাইপলাইনে ছিদ্রের কারণে জৈতাছড়া গাঙে আগুন ধরে একই পরিবারের দগ্ধ তিনজনের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।
শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বশির মিয়া (৫০) ও তার ছেলে রেদোয়ান মিয়া (২২) মারা যান। বশির মিয়ার স্ত্রী পারভিন বেগমের (৪০) অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ইলামপাড়ায় পাইপলাইনে ছিদ্র করে তেল চুরির চেষ্টা করা হয়। পাইপলাইন থেকে নির্গত তেল জৈতাছড়া গাঙে ছড়িয়ে পড়লে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা তা ঘিরে পড়ে। দগ্ধ তিনজন তেলের গন্ধে আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দগ্ধ হন।
শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দগ্ধদের প্রাথমিক চিকিৎসা শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুরু হয়ে মৌলভীবাজার সদর, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাধ্যমে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ‘শেভরন ও পেট্রোবাংলা চিকিৎসার খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি।’
দগ্ধ পারভিন বেগমের ভাই মোছাদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, নিহতদের মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং মাগফেরাতের জন্য ইসলামি ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে পাঠানো হবে।
শেভরন বাংলাদেশের ম্যানেজার (গণমাধ্যম) শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চাই।’
ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, শেভরন সর্বোচ্চ মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, ‘পাইপলাইনে ছিদ্র হওয়া সত্ত্বেও শেভরনের পর্যবেক্ষণ বা সতর্কবার্তা ছিল না।’ তারা দাবি করছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চিকিৎসা খরচ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক এবং ভবিষ্যতে জনবসতির পাশে থাকা পাইপলাইনের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করা হোক।’


