কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
রাজনীতিবিদ ও কূটনৈতিক পর্যায়েও চলছে নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ।
ঘটনার সূত্রপাত এক বিজেপি নেতার সমালোচনার পর মুস্তাফিজকে বাদ দিতে কেকেআরকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশ থেকে।
বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা উত্তর প্রদেশের সাবেক বিধায়ক সঙ্গীত সোম কেকেআর–এর মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সমালোচনা করেন।
তিনি অভিনেতা শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী‘ বলে অভিহিত করেন এবং হুমকি দেন যে, মুস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়রা ভারতে এলে বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারবেন না।
এ ছাড়া ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু দেবকিনন্দন ঠাকুরও শাহরুখ খানের সমালোচনা করেন এবং মুস্তাফিজকে খেলানো থেকে বিরত থাকতে কেকেআর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।
রাজনৈতিক নানা প্রতিক্রিয়া ও বিসিসিআই–এর এই পদক্ষেপকে ভারত ও বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে নির্বোধ রাজনৈতিকীকরণ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে সোমবার রাতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে, যার জন্য ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আপাত ব্যর্থতা পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেললেও বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় মুস্তাফিজকে কিনেছিল কেকেআর। কিন্তু পরে বিসিসিআই ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি‘র দোহাই দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিসিসিআই সচিব অনুরাগ সাইকিয়া জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে এবং তারা চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে পারবে।
ভারতীয় রাজনীতিবিদদের সমালোচনা
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এবং কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি—একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? খেলার এই নির্বোধ রাজনৈতিকীকরণ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?’
তার মতে, অন্য দেশের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিস্থিতির জন্য একজন খেলোয়াড়কে দায়ী করা সম্পূর্ণ অন্যায্য।
অন্যদিকে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, কেন বিসিসিআই, আইসিসি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার নিজের সুবিধা অনুযায়ী জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করছে কিন্তু বাণিজ্যিক স্বার্থকে সবার উপরে রাখছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হাই মনে করেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা মুস্তাফিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে ভারত হয়তো এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে দিল্লি ঢাকাকে ইসলামাবাদের (পাকিস্তান) সমান্তরালে দাঁড় করাচ্ছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা আরও বাড়তে পারে।


