ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে আসছে আরও এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফাং ওয়াং। এই ‘সুপার টাইফুন’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলের দিকে এগুচ্ছে।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের (পাগাসা) তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন ফাং ওয়াং রোববার রাতে লুজনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (প্রায় ১৫৫ মাইল) বেগে ধ্বংসাত্মক ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।
টাইফুনটির কারণে দেশের কিছু স্কুল সোমবারের ক্লাস বাতিল করেছে, কেউবা ক্লাস অনলাইনে স্থানান্তর করেছে, আর ফিলিপাইন এয়ারলাইনস বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে।
যদিও টাইফুন ফাং ওয়াং স্থলে প্রবেশ করার পর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় ব্রিফিংয়ে পাগাসার এক কর্মকর্তা জানান, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চল এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিএস-সিবিএন নিউজের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাটানদুয়ানেস প্রদেশে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল দুলছে, প্রবল বৃষ্টিতে ওই এলাকা ভেসে যাচ্ছে এবং ঝড়ের ভয়াবহ শব্দ শোনা যাচ্ছে।
দেশের বেশিরভাগ অংশে ঝড়ের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হলেও, যেসব এলাকা সরাসরি আঘাত পেতে পারে—বিশেষ করে কাটানদুয়ানেসসহ যেসব অঞ্চলে ফাং ওয়াং সরাসরি আঘাত হানতে পারে, সেগুলো নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সেখানে বসবাসরত মানুষ ছাড়াও, অন্যান্য নিচু ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের, রোববার সকাল নাগাদ নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফাং ওয়াংয়ের কারণে ওই দেশে কয়েকদিন আগেই ঘটে যাওয়া চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতে উদ্ধার কার্যক্রমও স্থগিত করতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফিলিপাইনে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে কাদামাটির স্রোত এসে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। দ্রুতগতির আকস্মিক বন্যায় কিছু দরিদ্র এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
কালমায়েগির প্রভাবে এখন পর্যন্ত ফিলিপাইনে অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আর ১০০ জনেরও বেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভিয়েতনামেও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে কালমায়েগির প্রভাবে প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েছে, ঘরের ছাদ উড়ে গেছে এবং বড় বড় জানালা ভেঙে পড়েছে।
টাইফুন কালমায়েগির পর এই আসন্ন ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে ফিলিপাইন সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
এর ফলে সরকারি সংস্থাগুলো জরুরি তহবিল ব্যবহারের অতিরিক্ত ক্ষমতা পাওয়ায় যাদের সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের জন্য জরুরি পণ্য ও সেবা দ্রুত সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে পারছে।
অনেক ফিলিপিনোর জন্য, এই সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন কালমায়েগির ধ্বংসযজ্ঞ আসন্ন ঝড় নিয়ে আরও বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফিলিপাইন পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগরের এমন অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে নিয়মিতভাবে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
প্রতি বছর এই অঞ্চলে প্রায় ২০টি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, যার অর্ধেকের প্রভাব সরাসরি ফিলিপাইনে পড়ে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন না যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন বা হারিকেনের সংখ্যা বাড়ছে।
তবে সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলো, উষ্ণতর সমুদ্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতর বায়ুমণ্ডলের কারণে আরও তীব্র হতে পারে। ফলে বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাত আরও প্রবল হতে পারে এবং উপকূলীয় প্লাবনের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।


