প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মেধাবীদের বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে হবে এবং তাদের আরও উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বেচ্ছায় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কাজ করছেন, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা। মেধাবীদের বিশ্বমণ্ডলে তুলে ধরতে এবং আরও উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।‘
সোমবার বিকালে আন্তর্জাতিক গণিত ও জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী ছয়জন শিক্ষার্থী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী শিক্ষার্থীরা হলেন–৩৬তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৫ এ ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আরিজ আনাস, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী হা-মিম রহমান, এবং মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী ফারাবিদ বিন ফয়সাল।
এ ছাড়া ৬৬তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৫ এ ব্রোঞ্জ পদক জয়ী চট্টগ্রাম বাকলিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জিতেন্দ্র বড়ুয়া, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, এবং ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী তাহসিন খান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার, এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং তাদের সমস্যার সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কথা শুনে আমি খুবই আনন্দিত। তোমরা নিজেরাই আগ্রহী হয়ে এতদূর এগিয়ে গেছো। তোমাদের উৎসাহ ও আগ্রহ থেকে আমরাও অনুপ্রাণিত হলাম।‘
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘১১১ দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী ম্যাথ অলিম্পিয়াডে গোল্ড পেয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।‘
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘অনেক দুর্গম এলাকা থেকেও শিক্ষার্থীরা ঢাকায় এসে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের জন্য সাহায্য প্রয়োজন।‘
অলিম্পিয়াড কমিটির কর্মকর্তারা জানান, দেশব্যাপী প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম রাউন্ডে অংশ নেয়, এর মধ্যে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হয়। তারপর ঢাকায় ক্যাম্পিং এবং প্রবলেম সলভিং ক্লাসের মাধ্যমে সেরা ছয়জনকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পাঠানো হয়।


