দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৫৩০ লাখ (৩৫৩ মিলিয়ন) ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২১ দশমিক ৭৫ হিসেবে এই ডলার কেনা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪ দশমিক ৫ কোটি বা ৩০ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে।
সাম্প্রতিক সময়ে এটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একদিনে সর্বোচ্চ ডলার কেনার রেকর্ড। আর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে রিজার্ভ শক্তিশালী করতে কতটা আগ্রাসী বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এই লেনদেনের ফলে সোমবার পর্যন্ত রিজার্ভ ৩০.৯৪৫ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৯৪ দশমিক ৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর চলতি মাসের শুরুতে রিজার্ভ ৩০ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।
মধ্য জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা ডলার বিক্রির বহু বছরের ধারাকে পাল্টে দিয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে রিজার্ভ কমে গত বছরের শেষে ২৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে, ৪ তারিখে ১৩৪ মিলিয়ন, ৯ তারিখে ২৬৫ মিলিয়ন এবং সোমবারের ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডলার ক্রয় একটি দ্বৈত উদ্দেশ্য পূরণ করছে। যার একটি হলো রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং দ্বিতীয়টি টাকার মানকে খুব দ্রুত শক্তিশালী হওয়া থেকে বিরত রাখা।
স্থানীয় মুদ্রার মান শক্তিশালী হলে তা রপ্তানিকারকদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহকেও নিরুৎসাহিত করতে পারে।
বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপস্থিতির ফলে বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, যা আগস্টের শেষ দিক থেকে ১২১ দশমিক ৬১ থেকে ১২১ দশমিক ৮৬ টাকার মধ্যে রয়েছে। সবশেষ সোমবার এই হার ছিল ১২১ দশমিক ৭৫ টাকা।
নতুন এই কৌশলটি গত দুই বছরের পরিস্থিতি থেকে বড় উত্তরণ ঘটিয়েছে।
এর আগে বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি, খাদ্য এবং কাঁচামালের আমদানি বিল মেটাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই বিক্রি স্বল্পমেয়াদী স্বস্তি দিলেও রিজার্ভকে বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে এনেছিল।
ভারতের ৬৯৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল মজুতের তুলনায় বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ পরিমিত। তবে এটি অন্য বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের চেয়ে শক্তিশালী।
পাকিস্তানের রিজার্ভ প্রায় ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০২২ সালে দেউলিয়া হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। নেপালের রিজার্ভও এক অঙ্কের বিলিয়ন ডলারে সীমিত।
প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশ এখনও ছয় থেকে আট মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম। যা জ্বালানি আমদানি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে এক ধরনের চাপ থাকার পরেও সুরক্ষা দেয়।


