ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিমভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া ও অননুমোদিত ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন তানভীর আলম ওরফে রাহাত ও মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে মানিক। তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, একটি সিম কার্ড ও সাত পিস ভুয়া ভেজাল ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রোডাক্ট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুয়া ও ভেজাল অননুমোদিত ওষুধের প্রচার ও বিক্রি করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পেজ খোলা হতো। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তার ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ভিডিও ও পোস্ট তৈরি করা হতো। এসব পোস্টে প্রোসুলিন এফ নামের একটি ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রির প্রচার চালানো হতো।
এসব প্রচারণায় সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এতে অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এ ঘটনায় অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্তে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়।
ডিবি আরও জানায়, চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজন সদস্য জড়িত রয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


