চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯’ এর রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা-পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান।
তিনি বলেন, দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ এর রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজাম শিপিং লাইন্সের ‘অ্যাডভেঞ্চার-৯’ ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছালে বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সেটি জব্দ করে। পরে লঞ্চটির চার কর্মীকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়য়ারচর এলাকার মো. মিন্টু (২৮), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া এলাকার মো. সোহেল (৪০), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভরতকাঠি এলাকার মহিন হাওলাদার (২৫) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রুপসী এলাকার মো. মনিরুজ্জামান (৪০)।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর এর প্রধান মাঝি, চালক, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক পালিয়ে যান। তবে চারজন কেবিন কর্মীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাইমচর উপজেলার হরিনা এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এ সময় চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
নিহতরা হলেন ভোলা লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই এলাকার মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫) ও চরফ্যাশন উপজেলার আহিমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। কোস্টগার্ড চারজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।


