বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এই মাইলফলক ছোঁয়ার দিনটা মুশফিক অবশ্য শেষ করেছেন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে। দিনের নির্ধারিত ৯০ ওভার খেলা হয়ে যাওয়ায় শততম টেস্টে সেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে আছেন মুশফিক। দ্বিতীয় দিন মুশফিকই খেলবেন প্রথম বলটা। আউট হয়ে গেলে থেকে যাবে আফসোস। আর নইলে ১২তম ব্যাটার হিসেবে মুশফিক ছোঁবেন শততম টেস্টে সেঞ্চুরির অনন্য রেকর্ড।
এ নিয়ে অবশ্য মুশফিক নিজেও চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন মুমিনুল হক। মুশফিকের সাথে ১০৪ রানের জুটি গড়া মুমিনুল সংবাদ সম্মেলনে এসে জানান, মুশফিক বলেই সেঞ্চুরিটা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। যদিও আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটাররা সেশনের শেষ দিকে ইচ্ছাকৃত দেরি না করলে সেঞ্চুরিটা বুধবারই পেয়ে যেতে পারতেন মুশফিক। সেঞ্চুরি না পেলেও দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেই প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছেন তিনি, বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৯৮ রান।
দিনের খেলা শেষ করে যখন মাঠ ছাড়েন মুশফিক, তখন তাকে দেখে কোনোভাবেই মুমিনুলের মনে হয়নি কোনো স্নায়ুচাপে ভুগছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘দেখে মনে হয়নি কোনোভাবে সে নার্ভাস ছিল। উনি ১০০ ম্যাচ খেলার আগে যেরকম ছিল, এখনও সেরকমই আছে। ১০০ ম্যাচ খেলছেন, এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করতেই হবে, এমন কিছু দেখিনি। খুব নরমাল ক্রিকেট খেলেছেন উনি সিচুয়েশন বুঝে।’
৬৩ রানের ইনিংস খেলা মুমিনুল আরো বলেন, ‘শেষদিকে মনে হচ্ছিল আজকে হয়ে যাবে সেঞ্চুরিটা। যদিও ওরা (আয়ারল্যান্ড) লেট করছে। এই কারণে হয়তো হয়নি। আর আমিও খুব বেশি চিন্তিত না, কারণ মুশফিক ভাইয়ের ১০০, ২০০ করার অভ্যাস আছে তো।’
মুশফিকের বিশাল অভিজ্ঞতাতেই তাই ভরসা রাখছেন মুমিনুল। তার বিশ্বাস ১৩-তম সেঞ্চুরির দেখা পাবেন মুশফিক, ‘আমিও জানি যে ওই জায়গায় উনি প্যানিকড হন না। ওই কারণে আত্মবিশ্বাসটা আছে যে। আগামীকাল উনার জায়গায়অন্য কেউ থাকলে হয়তো একটু প্যানিকড থাকতাম। উনি যেহেতু আছে, কালকে গিয়ে ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।’
দিনের শেষ ওভারটা হয়ে যাওয়ার পরও বাড়তি আরেকটা ওভার খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কারণ মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৯৯ রানে, তার সঙ্গী লিটনও ছিলেন ফিফটি থেকে ৩ রান দূরে। কিন্তু সেই সুযোগটা বাংলাদেশকে দিতে চায়নি আইরিশরা।
বাংলাদেশ কি আরও একটা ওভার খেলতে চেয়েছিল, এই প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল বলেন, ‘হ্যাঁ, এই সময় তো সবাই চাইবে। কারণ দুইজনেরই মাইলস্টোন ছিল। অবশ্যই যে কেউ চাইবে এই সময় করার জন্য। ওরা অবশ্যই স্লো করছে। অনেক স্লো ছিল। সবাই চাচ্ছিল।’


