মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে পূর্ব শীলমন্দি এলাকায় সুমল লাল নামে এক ব্যক্তির কারখানায় অভিযান চালায় মুন্সিগঞ্জ সদর আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সমন্বিত একটি টহল দল।যৌথ অভিযানে ওই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইন- শৃঙ্খলাবাহিনী পূর্ব শীলমন্দি এলাকার সুমল লালের গোডাউনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সন্দেহজনক গতিবিধির কথা জানতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।
এ সময় ওই গোডাউন থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির তিনটি সীসা কার্তুজ, পাঁচটি লোহার বাট, সাতটি লোহার ব্যারেল, সাতটি রিকয়েল স্প্রিং, একটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি ড্রিল মেশিন, ছয়টি লোহার বোল্ট, লোহার তৈরি লেদ মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে মুন্সিগঞ্জ সদর আর্মি ক্যাম্প এই অভিযান পরিচালনা করে।
জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়, বিশেষ করে চরাঞ্চলের স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রায় সময়ই অবৈধ অস্ত্র ও ককটেল জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে যৌথবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া এই কারখানা থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সংঘটিত সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রও ওই গোডাউন থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল।
গত ৩ ও ১০ নভেম্বর সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি ও চর ডুমুরিয়া এলাকায় স্থানীয় আধিপত্যের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে গুলিবিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮ দিনের ব্যবধানে তুহিন দেওয়ান (২২) ও আরিফ মীর (৩৭) নামের দু’জন ব্যক্তি নিহত হন।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


