ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার আট টুকরা লাশ উদ্ধারের মামলায় অভিযুক্ত হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। এ ছাড়া আরেক অভিযুক্ত কিশোরী হালিমাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু তাদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন হেলেনার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হেলেনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। একই সঙ্গে হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তার কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান হালিমাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নিহত মোকাররম মিয়াকে গত ১৩ মে রাতে মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাসায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাতুড়ি, বটি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে কালো পলিথিনে মুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, পরদিন দুপুরে মুগদা থানার আব্দুল করিম রোডের একটি ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গা থেকে কয়েকটি পলিথিনে মোড়ানো শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরে হেলেনা বেগম (৪০) ও শিশু হালিমা আক্তারকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেন। তাদের তথ্যমতে মানিকনগরের বালুর মাঠ এলাকা থেকে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামি হেলেনা বেগম স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় মুগদা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।


